বাংলাদেশে অনেকেই প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক জটিলতা অথবা দ্রুত আইনি সুরক্ষার জন্য “কোর্ট ম্যারেজ” সম্পর্কে জানতে চান। বিশেষ করে অনেকে জানতে চান, কোর্ট ম্যারেজ করতে কি কি লাগে এবং কোর্ট ম্যারেজ করার নিয়ম কি।
তবে প্রথমেই জানা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশের আইনে আলাদা কোনো “কোর্ট ম্যারেজ আইন” নেই। আমরা সামাজিক ভাবে যেটাকে কোর্ট ম্যারেজ বলি, সেটি মূলত একটি হলফনামা বা অঙ্গীকারনামা। বৈধ বিবাহের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।
কোর্ট ম্যারেজ করতে কি কি লাগে ২০২৬
২০২৬ সালে কোর্ট ম্যারেজ করতে নিম্নলিখিত কাগজপত্র লাগে:
- উভয় পক্ষের বয়স এবং পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি লাগবে।
- কোর্ট ম্যারেজের কাগজে ব্যবহারের জন্য উভয়ের দুই কপি করে পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে।
- মুসলিম এবং খ্রিষ্টানদের কোর্ট ম্যারেজের জন্য নিজ ধর্মের ২ জন পুরুষ সাক্ষী এবং হিন্দু কোর্ট ম্যারেজের জন্য ৪ জন হিন্দু সাক্ষী লাগবে।
- উভয় পক্ষে বা এক পক্ষ ডিভর্স বা তালাক প্রাপ্ত হলে ডিভোর্স সার্টিফিকেট বা তালাকনামা লাগবে।
- যদি একজন বিদেশী নাগরিক হয় তাহলে পাসপোর্ট, ভিসা এবং অবিবাহিত সনদ লাগবে।
কোর্ট ম্যারেজ করার নিয়ম
যেহেতু কোর্ট ম্যারেজ বলতে আলাদা কোন আইন নেই, সুতারাং কোর্ট ম্যারেজ করার সময় তিনটি বিষয় সম্পূর্ণ করলে বিবাহ বিষয় আর কখনো কোথাও যেতে হবে না।
- যার যার ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে
- কোর্ট ম্যারেজ বা বিবাহের হলফনামা
- ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন
মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯৬১ ও ১৯৭৪। খ্রিষ্টান ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন আইন ১৮৭২। হিন্দু ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন আইন ২০১২। স্পেশাল ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন আইন ১৮৭২।
সমাজে প্রচলিত কোর্ট ম্যারেজ এবং সতর্কতা
অনেকে অনেক ভাবে বুঝাবে কিন্তু নিচের কোন একটা বিষয় অমান্য করলে বিবাহ আইনসম্মত হবে না। ভবিষ্যতে বড় ধরণের ঝামেলায় পরবেন।
- রেজিস্ট্রেশন ছাড়া শুধু কোর্ট ম্যারেজ / হলফনামা / নোটারি পাবলিক / স্ট্র্যাম্পে বিবাহ হয় না
- ছেলের বয়স ২১ এবং মেয়ের বয়স ১৮ না হলে বিবাহ কোন ভাবেই হবে না।
- অনলাইনে বা দেশের বাইরে থেকে বিবাহ করলেই প্রতারিত হবেন, বিবাহ হবে না।
- মেয়েদের ডিভোর্সের পর ৯০ দিন অতিবাহিত হবার আগে বিবাহ করলে সেই বিবাহ হবে না।
বাস্তব অভিজ্ঞতা
একজন ক্লাইন্ট আমাদের চেম্বারে এসে বললেন, সে ২০১৯ সালে তথাকথিত কোর্ট ম্যারেজ করেছিলেন। এখন যে অফিসে চাকরি করে, সেই অফিসে স্ত্রী ও বাচ্চার চিকিৎসা ভাতার জন্য আবেদন করবে, তাই ম্যারেজ সার্টিফিকেট লাগবে।
যেহেতু বাচ্চা আছে, সেহেতু বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন করলে দেখা যাবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের আগেই বাচ্চার জন্ম হয়েছে!
শেষ পর্যন্ত আমরা ২০১৯ সালে বিবাহ দেখিয়ে, বর্তমান তারিখে রেজিস্ট্রেশন করে সার্টিফিকেট দিয়েছি। যেহেতু এটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল, তাই বিষয়টি সাধারণভাবেই সমাধান হয়েছে। কিন্তু এটি যদি ভিসা বা এম্বাসির কাজ হতো, তাহলে এই সার্টিফিকেট গ্রহনযোগ্য হত না।
পরামর্শ
বিবাহ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা পার্ট সুতরাং সময়, খরচ বা যে কোন কারণে শর্টকাট না খুঁজে আইন মেনে রেজিস্ট্রি করে নিন। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করা যায়। যার খরচ রেজিস্টার এবং ধর্ম ভেদে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।


